ঢাকা

No edit

🔴 ব্রেকিং নিউজ
ঢাকাঃ
🔴 ব্রেকিং NEWS
sotorkobarta.com
সর্বশেষ খবর পেতে ভিজিট করুন www.sotorkobarta.com

No edit

সংবাদ শিরোনাম ::
Header Ads

সচিবালয় থেকে অভিযোগ, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ—তবু কেন নীরব জেলা প্রশাসন?

প্রকাশঃ
অ+ অ-


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বাঁচামারা ও চরকাটারি এলাকায় অনুমোদিত বালু মহলের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমি, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক চত্বরে এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মানিকগঞ্জ জেলা শাখা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে আট দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অভিযোগ পত্র
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অভিযোগ প্রত্র

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অনুমোদিত ইজারা এলাকার বাইরে শক্তিশালী ড্রেজারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে।

এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়ছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।"

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে এবং ২৮ জুন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শিবালয়ের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নদী এলাকায় অনুমোদিত ইজারা এলাকার বাইরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগপত্রে ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি পাঠানো, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার ও পাইপলাইন জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অভিযোগের অনুলিপি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও বাস্তবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো দৃশ্যমান অভিযান পরিচালিত হয়নি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সচিবালয়ের অভিযোগ প্রত্র

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী হারুন-রশিদ পিন্টু এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব কাজী মাসুকুর রহমান।

বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, "একাধিক সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও যদি অবৈধ ড্রেজার চলতেই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমরা চাই, সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক এবং অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করুক।"

একটি মন্তব্য করুন