ওয়েবসাইটে দেখানো কর্মকর্তা বাস্তবে নেই, নান্নার ইউপিতে প্রশাসন চালাচ্ছে কে?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬ নম্বর নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৫ / ৩ / ২০২৬ ইং ) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সরেজমিনে নান্নার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে সচিব শারমিন আক্তারকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আবু মূসার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সচিবকে নিয়মিত অফিস করার জন্য বলা হয়েছে। সচিবের ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সচিব অসুস্থ থাকার কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সচিব নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকায় জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে তাদের বারবার ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য জানান, “ বেশিরভাগ সময়ই তিনি সকাল ১০টা থেকে ১১টার দিকে পরিষদে আসেন। ফলে সকালে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। এখন আমরা কি বলবো ”
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মুসা বলেন, “আমি সপ্তাহে দুইদিন পরিষদে যাই। আমি পরিষদে থাকাকালীন সবাইকে কঠোরভাবে বলি , “কোনো গ্রাহক যেন সেবা না নিয়ে পরিষদ থেকে ফিরে না যান। সবাইকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে একজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অফিসে অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ঘেঁটে আরও একটি অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। ওয়েবসাইটে “ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা” হিসেবে মোহাম্মদ ইউসুফ আল মাহদী নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়েবসাইটে যাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে তিনি আসলে এই ইউনিয়ন পরিষদের কেউ নন। এমনকি বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি চাকরিতেও কর্মরত নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যদি ওয়েবসাইটে দেওয়া ব্যক্তি প্রকৃত কর্মকর্তা না হন, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম কে পরিচালনা করছেন এবং কেনই বা ভুল তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান উন্নত করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ওয়েবসাইটে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।


Post a Comment